সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আবার কমল
সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (০১ জানুয়ারি) থেকে কেনা সঞ্চয়পত্রে মেয়াদ শেষে মুনাফা মিলবে গড়ে সাড়ে ১০ শতাংশের কাছাকাছি, যা এতদিন ছিল প্রায় ১২ শতাংশ। নতুন এই হার আগামী ছয় মাস-জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত কেনা সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে। তবে আগে কেনা সঞ্চয়পত্রে আগের হারেই মুনাফা পাবেন গ্রাহকরা। এ বিষয়ে আজ একটি সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সঞ্চয়পত্রের সুদহার এখন সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ করা হচ্ছে। গত বছরের জানুয়ারি থেকে এই পদ্ধতি চালু হয়। বর্তমানে পাঁচ বছর ও দুই বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সর্বশেষ ছয় মাসের গড় নিলাম সুদহারের ভিত্তিতেই সঞ্চয়পত্রের মুনাফা নির্ধারিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহার কমে যাওয়ায় সঞ্চয়পত্রের মুনাফাও কমেছে। এর আগে গত জুলাই–ডিসেম্বর মেয়াদেও সুদহার সামান্য কমানো হয়েছিল।
বর্তমানে সরকারের চার ধরনের সঞ্চয়পত্র এবং পোস্ট অফিস ফিক্সড ডিপোজিট নামে একটি সঞ্চয় স্কিম চালু রয়েছে। প্রতি ক্ষেত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত এবং এর বেশি বিনিয়োগের জন্য আলাদা সুদহার নির্ধারণ করা হয়। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন। সঞ্চয়পত্রের বাইরে ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের সাধারণ হিসাব ও প্রবাসীদের জন্য তিন ধরনের বন্ডে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে সুদহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকা বা তার কম বিনিয়োগে মেয়াদ শেষে মুনাফা পাওয়া যাবে ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশ হারে। গত জুলাই–ডিসেম্বরে যা ছিল ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এর বেশি বিনিয়োগে মুনাফা কমে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশে।
তিন বছর মেয়াদি তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ। আগে এটি ছিল ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ। এর বেশি বিনিয়োগে মুনাফা পাওয়া যাবে ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
পাঁচ বছর মেয়াদি পেনশনার সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে মুনাফা কমিয়ে ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ করা হয়েছে, যা আগে ছিল ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ। এর বেশি বিনিয়োগে মুনাফা হবে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ।
একইভাবে, পাঁচ বছর মেয়াদি পরিবার সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে মুনাফা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ দশমিক ৫৪ শতাংশ। এর বেশি বিনিয়োগে মুনাফা মিলবে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ হারে।
এ ছাড়া তিন বছর মেয়াদি পোস্ট অফিস ফিক্সড ডিপোজিট হিসাবেও মুনাফা কমেছে। সাড়ে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে মুনাফা পাওয়া যাবে ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং এর বেশি বিনিয়োগে ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশ। মেয়াদ পূর্তির আগে সঞ্চয়পত্র ভাঙানো হলে বিভিন্ন বছরে মুনাফা আরও কম হারে দেওয়া হবে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/152390