বগুড়ায় নতুন বইয়ে উচ্ছ্বাস প্রাথমিকের শিশুদের

বগুড়ায় নতুন বইয়ে উচ্ছ্বাস প্রাথমিকের শিশুদের

স্টাফ রিপোর্টার : নতুন বছরের প্রথমদিনে বগুড়ার প্রাথমিকের সাড়ে চার লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী নতুন বই পেয়ে খুশিতে আত্মাহারা। সকাল থেকেই স্কুলমুখী হয়ে তারা রঙিন মলাটের বই বুকে জড়িয়ে ধরেছে, কেউ কেউ খুশিতে উল্টে দেখছে পাতা। তবে মাধ্যমিক স্তরে ঠিক এর ভিন্ন চিত্র। দীর্ঘদিন থেকে বছরের প্রথমদিনে কেউ আংশিক, কেউবা একেবারেই বই না পেয়ে মন খারাপ করে বাড়ি ফিরেছে।

দীর্ঘদিন থেকে নতুন বছরের প্রথমদিনে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়ার মাধ্যমে বই উৎসব পালিত হয়ে এসেছে। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ অভ্যূত্থানের পর ২০২৫ সাল থেকে বছরের প্রথম দিন আনুষ্ঠানিকভাবে বই বিতরণ কার্যক্রম হলেও এবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি’র চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কারণে তিনদিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষনায় বই বিতরণ নিয়ে কোথাও কোনো রকম আনুষ্ঠানিকতা ছিলো না। তবে প্রতিটি স্কুলে স্কুলে অনানুষ্ঠানিকভাবে বই বিতরণ কার্যক্রম চলেছে। 

জানা গেছে, বই বিতরণ উপলক্ষে সকাল থেকেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা স্কুলে স্কুলে ভিড় জমিয়েছেন। রেজাল্ট শিট দেখে শিক্ষার্থীদের হাতে বই হাতে তুলে দিয়েছেন শিক্ষকরা। প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের মুখে হাসি দেখলেও মাধ্যমিকসহ-মাদ্রাসার যেসব শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছেনি তাদের মুখ বিষন্ন দেখা গেছে।

বগুড়া জিলা স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আদিব আল রাফি নতুন বই না পেয়ে বিষন্ন মুখে স্কুল থেকে বের হয়। আদিব জানায়, ক্লাস ওয়ান থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতি বছর বছরের প্রথম দিন বই পেলেও এবার তার ব্যতিক্রম হলো। ভেবেছিলাম নতুন বই পেলে আজ থেকেই পড়া শুরু করবো। কিন্তু তা আর হলো না। কবে যে বই পাবো সেটিও জানিনা। একই স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আরমান শাফি তুর্য নতুন বই হাতে পেয়ে দারুণ খুশি। দাদীর হাত ধরে স্কুলে আসা তুর্য জানায়, এবারই সে এই স্কুলে ভর্তি হয়েছে। আজই (গতকাল বৃহস্পতিবার) তার স্কুলের প্রথমদিন । নতুন স্কুলে প্রথমদিনই এসে সবক’টি নতুন বই পেয়ে খুব আনন্দ হচ্ছে বলে জানায় তুর্য।

বগুড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় সরকারি-বেসরকারি ও কিন্ডারগার্টেন মিলে ২ হাজার ৫৬২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রি-প্রাথমিক থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত ৪ লাখ ৫৮ হাজার ২২১জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এসব শিক্ষার্থীর জন্য বইয়ের চাহিদা ১৯ লাখ ৭৭ হাজার ৮৫০টি বই। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রেজোয়ান হোসেন জানান, চাহিদা অনুযায়ী সকল বই প্রায় এক সপ্তাহ আগেই এসেছে। এরপর থেকে উপজেলায় উপজেলায় এবং সকল স্কুলে বই আমরা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছি।

এদিকে জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মাধ্যমিক, ইবতেদায়ী, দাখিল ও কারিগরীর শিক্ষার্থীদের জন্য বইয়ের চাহিদার বিপরীতে ৫৬ শতাংশ বই এসেছে। এরমধ্যে জেলার ৭৪৫টি মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠানে (ষষ্ঠ থেকে ৯ম) শ্রেণির বইয়ের চাহিদার মাত্র ৪১ দশমিক ৪৮ শতাংশ বই শিক্ষার্থীরা পেয়েছে। জেলায় ৩০৭টি মাদ্রাসা রয়েছে। এরমধ্যে ইবতেদায়ী (১ম থেকে ৫ম) শ্রেণির বইয়ের চাহিদার মাত্র ৪৭ শতাংশ বই এসেছে। এসএসসি ভোকেশনালের চাহিদার ৯৫ শতাংশ বই এসেছে। অপরদিকে ইংরেজি ভার্সনের শিক্ষার্থীদের কোনো বই আসেনি বলে জানা গেছে। 

বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমান আকন্দ জানান, তার প্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ ও ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো বই আসেনি। ৭ম শ্রেণির সব বই শিক্ষার্থীরা পেয়েছে আর নবম শ্রেণির শুধু বাংলা, ইংরেজি, অংকসহ মূল বইগুলো শিক্ষার্থীরা পেলেও বিভাগভিত্তিক (বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা) বইগুলো এখনও পাওয়া যায়নি। তবে আগামি মঙ্গলবারের মধ্যে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সকল বই পাবে বলে তিনি আশা করেন। বগুড়া বিয়াম মডেল স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তার প্রতিষ্ঠানে ৭ম ও ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সব বই পেলেও ষষ্ঠ ও ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা কোনো বই তাদের হাতে এখনও আসেনি। 

বগুড়া জেলা শিক্ষা অফিসার রমজান আলী আকন্দ জানান, বিনামূল্যে বিতরণের জন্য মাধ্যমিকের ষষ্ঠ ও ৮ম শ্রেণির কোনো বই এখনও তারা পাননি। অন্য দুটো শ্রেণিরও কিছু বইয়ের সংকট রয়েছে। মাদ্রাসা ও কারিগরী শ্রেণিগুলোর বইয়ের সংকট রয়েছে। ইংরেজি ভার্সনের কোনো বই এখনও জেলায় আসেনি। তবে প্রতিদিনই কিছু কিছু বই আসছে। আগামি ১৫ জানুয়ারির মধ্যে সকল বই পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা করেন।

 

 

 

 

 

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/152389