নতুন বছরে গড়ে উঠুক মানবিক ও গণতান্ত্রিক সমাজ
আসছে ২০২৬ শুভ নববর্ষ। বিগত২০২৫ মহাকালের গর্ভে বিলীন হয়ে গেল। নতুন বছরে আমরা প্রত্যাশা করি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক সমাজ ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ে উঠবে। নতুন বছর আমাদের জীবনে বয়ে আনুক সুখের বার্তা। একটি সুন্দর সমাজ গড়ে উঠুক জুলাই আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মূল স্লোগান ছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়া। মুক্তিযুদ্ধেরও মূল চেতনা ছিল একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ যেখানে ধনী দরিদ্রের ব্যবধান থাকবেনা। সমতা ভিত্তিক উন্নয়ন হবে। স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও সমতা ভিত্তিক উন্নয়ন ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে উঠেনি যা কাক্সিক্ষত নয়। নতুন বছরে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহমর্মিতা গড়ে উঠুক। হিংসা বিদ্বেষ, ধর্মীয় হানাহানি বন্ধ হোক। গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে উঠুক যেখানে সব ধর্ম ও মতের সহাবস্থান নিশ্চিত হোক। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ, সুশাসন ও একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে উঠুক।
গণতন্ত্র মানে শুধু জনগণের শাসনই নয় সুশাসনও বটে। গণতন্ত্র হচ্ছে সর্বজনীন শাসন ব্যবস্থা। জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ায় গণতন্ত্রের বহির্প্রকাশ। ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়। কিন্তু কোনো কোনো সময় রাজনীতিবিদরা দলকেই বড় করে দেখতে চান। বিকল্প সমঝোতা, গণতন্ত্রের বিকল্প পারস্পারিক শ্রদ্ধাবোধ। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনামলে তিনি অনেকটা কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠেন। গণতন্ত্র ও মত প্রকাশের অধিকারকে সংকুচিত করেন। গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে দুর্বল করে ক্ষমতাকে কুিক্ষগত করেন। দুর্বল ভিত্তির উপর যেমন সুউচ্চ ইমারত তৈরি হয়না, তেমনি গণতন্ত্রও। তাই আগামী নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হোক। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত সরকারের চরিত্র হোক গণতান্ত্রিক, স্বৈরতান্ত্রিক নয়। কেননা জনগণ গণতন্ত্র পছন্দ করে স্বৈরতন্ত্র নয়। নির্বাচিত সরকার যেন বিগত সরকারের মতো জনগণের স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকারকে হরণ না করে। গণতন্ত্রের পথে দেশ এগিয়ে যায়। একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক সমাজ গড়ে উঠুক। পরিবার, সমাজ রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানগুলোর দেখভাল করার সার্বিক দায়িত্ব রাষ্ট্রের। কেননা সমাজ, পরিবার রাষ্ট্র থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো প্রতিষ্ঠান নয়। তাই সমাজে বসবাসরত মানুষের উন্নতি, সামাজিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা মানুষের নিরাপত্ত নিশ্চিত করা সুকুমার বৃত্তিগুলোর মানবিক করে তোলার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। রাষ্ট্র অবশ্য এ দায়িত্বগুলো যথাযথভাবে পালনে তৎপর। শিক্ষা, সংস্কৃতি একটি জাতির বড় পরিচয়। এর উপর নির্ভর করে গড়ে ওঠে আমাদের সামাজিক শৃঙ্খলা, মূল্যবোধ ও সমাজ কাঠামো। তরুণরা একটি দেশের ভবিষ্যৎ স্বপ্ন নির্মাতা ও কর্ণধার। পরিবারই হচ্ছে শিশুর প্রথম পাঠশালা। নতুন বছরে পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় হোক এবং পরিবারের নীতি ও আদর্শের মধ্য দিয়ে শিশু বেড়ে উঠুক।
বেকারত্ব একটি অভিশাপ, তাই দেশের উন্নয়নে জাতির মুক্তির লক্ষ্যে প্রয়োজন বেকারদের কর্মসংস্থান। তারা কর্মজগতে প্রবেশ করে দেশে অগ্রগতি ও উন্নয়নে যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে পারে। সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, বিপ্ল¬ব ঘটিয়ে নব জাগরণের সুচনা করতে পারে। শিক্ষিত বেকার তরুণদের অবশ্যই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। পৃথিবী বদলে যাচ্ছে। এ পরিবর্তিত পৃথিবীতে বিশ্বের সাথে বাংলাদেশকে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। আর শিক্ষিত তরুণরা হবে সে পথের সহযাত্রী। তাই শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সময়ের দাবি। তাদের মধ্যে এখনও চেতনা, উদ্দীপনা রয়েছে। সেই চেতনায় জুলাই বিপ্লব সংঘটিত হয়। তাই দেশ ও জাতির স্বার্থে তাদের কর্মসংস্থানের মধ্যদিয়ে আমাদের দেশটির ভাবমূর্তি বহির্বিশ্বে আরও উজ্জ্বল হবে। তাদের ওপরই নির্ভর করে দেশ জাতির গৌরব। তাদের কর্মসংস্থান করতে হবে। কারণ শিক্ষিত তরুণ সমাজ একটি জাতির স্বপ্ন। কিন্তু অর্থনৈতিক সংকট দারিদ্র, বেকারত্ব, বৈষম্যমূলক সমাজ ব্যবস্থা মূল্যবোধের অবক্ষয় এ বিষয়গুলো আমাদের শিক্ষিত তরুণ সমাজকে বিভ্রান্তির মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে। এ জন্য প্রয়োজন সুষ্ঠু উন্নয়নভিত্তিক বাস্তবমুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে শিক্ষিত বেকার তরুণদের সম্পৃক্ত করা। শিক্ষিত তরুণ বেকারদের দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানো সম্ভব হলে আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ সোনার বাংলায় পরিনত হবে। জুলাই আগস্টে যে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ঘোষণা করা হয়েছে তা বাস্তবায়নে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। সুতরাং পরিশেষে আমাদের প্রত্যাশা নতুন বছরে ছাত্র-জনতার বহুল প্রত্যাশিত একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। যে বাংলাদেশ হবে ধনী দরিদ্রের ব্যবধান মুক্ত বাংলাদেশ। একটি সুন্দর, মানবিক ও গণতান্ত্রিক সমাজ। যে সমাজে কোনো হিংসা বিদ্বেষ, ধর্মীয় বিভেদ থাকবেনা। সামাজিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হবে। সামাজিক মূল্যবোধের জাগরণ ঘটবে। গড়ে উঠুক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।
লেখকঃ
মোহাম্মদ নজাবত আলী
কলামিস্ট ও সহকারী শিক্ষক (অব.)
চামরুল উচ্চ বিদ্যালয়
দুপচাঁচিয়া, বগুড়া।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/152340